Teachitbd.প্রযুক্তির সাথে সবসময়

Recent Post

Welcome To Teachitbd

ওয়েব সাইটের সর্বশেষ পোষ্ট পেতে লাইক দিন আমাদের ফেসবুক পেইজ এ আর পান প্রতিদিন নতুন নতুন টিপ্স এন্ড টিউটোরিয়াল ।

Follow us

Wednesday, October 19, 2016

ক্যামেরা লেন্স নিয়ে বিস্তারিত



এসএলআর ক্যামেরার ক্রয়ের ক্ষেত্রে আপনার প্রথম পদক্ষেপ হবে আপনি যে ক্যামেরাটি কিনতে চলেছেন তার সমর্থক লেন্সের আধিক্য এবং বাজারে প্রাপ্যতা। আপনি নিশ্চয় ক্যামেরার বডি কেনার সাথে সাথে একাধিক লেন্স কিনবেন না। আর তাই ক্যামেরা কেনার সময় আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি আপনাকে পরবর্তীতে ওয়াইড অ্যাঙ্গেল থেকে শুরু করে টেলিফটো ছবি তোলার সুবিধা সম্বলিত লেন্সের সুবিধা দিতে সক্ষম হবে।
বিনিমেয় লেন্স সম্বলিত ক্যামেরাগুলোর সমস্যা হচ্ছে সত্যিকার অর্থে এই ক্যামেরা কেনার কথা চিন্তা করার সাথে সাথে নিজেকে একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের সাথে বেধে ফেলছেন। যেমন ধরুন, নিকন ব্যবহার করছে এফ এবং সিএক্স সংযোগ, ক্যানন ইএফ এবং ইএফ-এস, সনি এ এবং ই - নির্ভর করছে প্রতিষ্ঠানের কোন ক্যামেরা বডি আপনি পছন্দ করছেন তার উপরে। বিনিমেয় ক্যামেরা হওয়া স্বত্বেও আপনি কিন্তু ক্যাননের লেন্স নিকন বা সনিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।
বিনিমেয় লেন্স ক্যামেরার ক্ষেত্রে এই সূত্রটি অত্যন্ত সাধারণ একটি বৈশিষ্ট্য হওয়া স্বত্বেও নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য এই সূত্রটি মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

সাধারণ বৈশিষ্ট্যের বাইরে

ডিজিটাল এসএলআর এবং মিররবিহীন ক্যামেরাগুলো সাধারণত কিট হিসেবে বিক্রয় হয়। কিট অর্থ আপনি ক্যামেরার বডির সাথে পাবেন ১৮-৫৫ মি.মি. (৩৫ মি.মি. হিসেবে ২৭-৮২.৫ মি.মি.) একটি লেন্স। সাধারণ একজন ব্যবহারকারীর কাছে বিষয়টি আকর্ষণীয় বলে মনে হলেও ডিজিটাল অর্থে আপনি আসলে পাচ্ছেন মাত্র ৩x জুম। যেখানে ক্যাননের $৩৪৯ মূল্যের কম্প্যাক্ট ক্যামেরা পাওয়ারশট এসএক্স ২৬০ এইচএস এই পাচ্ছেন ২০x জুম (২৫-৫০০মি.মি.)। অচিরেই বুঝতে পারবেন কম্প্যাক্ট ক্যামেরার লেন্সের দূরত্বের সাথে আপনি যদি পাল্লা দিতে চান তাহলে বিনিমেয় লেন্সের পেছনে আপনাকে অনেক খরচ করতে হবে। কিন্তু পাবেন অদ্ভুত সুন্দর সব ছবি।

সংখ্যার খেলা

এবার শুরু হবে সংখ্যা খেলা, আর এর জন্য আপনার প্রয়োজন হবে ক্যালকুলেটরের! বাজারে আপনি যে সকল লেন্স পাবেন সেগুলোর ফোকাল লেন্থ হয়তোবা লেখা রয়েছে ১৮-৫৫ মি.মি., ৫০ মি.মি., ১৮-১০৫ মি.মি ইত্যাদি। কিন্তু ৩৫ মি.মি. ফিল্মের সাথে তুলনা করলে এই হিসেবটাতে একটু গণ্ডগোলের সৃষ্টি হয়। চিত্রগ্রাহকেরা একে ডিজিটাল ফ্যাক্টর হিসেবে অভিহিত করছেন। সাধারণভাবে ডিজিটাল এসএলআর ব্যবহার করে এপিএস-সি সেন্সর যা ৩৫ মি.মি. ফিল্ম ক্যামেরার সেন্সরের চাইতে ১.৫x অথবা ১.৬x ছোট হয়ে থাকে। অর্থাৎ আপনি যে কিট লেন্সটি পাচ্ছেন তা ১৮-৫৫ মি.মি. লেখা থাকলেও ৩৫ মি.মি. হিসেবে হয়ে যাচ্ছে ২৭-৮২.৫ মি.মি. (১৮-৫৫x১.৫)। তবে এই হারটি আবার নির্ভর করে তৈরি কারক এবং মডেলের উপর। যেমন, অলিম্পাস এবং প্যানাসনিক এর মাইক্রো ফোর থার্ড ক্যামেরাগুলোর ক্ষেত্রে এই বিভাজনটি হবে ২x হিসেবে, নিকোনের ১এস এ ২.৭x, পেনট্যাক্স কিউ ৫.৫x। তবে ফুল ফ্রেম ছবি তুলতে সক্ষম এমন ক্যামেরাগুলোর ক্ষেত্রে অবশ্য এই হিসাবটা আপনাকে করতে হবে না। ফুল ফ্রেম ক্যামেরা হিসেবে পাবেন নিকনের ডি ৮০০ অথবা ক্যাননের ফাইভ ডি বা ওয়ান ডি সিরিজটি। কিন্তু এই ধরণের ক্যামেরা কিনতে হলে আপনাকে খরচ করতে হবে ২ হাজার মার্কিন ডলারের অধিক।

জুম এবং প্রাইম লেন্স

বাজারে সর্বাধিক প্রাপ্ত লেন্সগুলোই হচ্ছে জুম লেন্স। মাত্র একটি লেন্স ব্যবহার করেই আপনি পাচ্ছেন বিভিন্ন দূরত্বের ছবি তোলার ক্ষমতা। এ ক্ষেত্রে বাজারে আপনি সাধারণ মানের ৩x ছাড়াও পাবেন ৭x এবং ১২x জুম লেন্স। এক্ষেত্রে যে সংখ্যাগুলি আপনাকে সাহায্য করবে সেগুলো হচ্ছে, ১৮-১২৫ মি.মি. অথবা ১৮-২০০ মি.মি., ৫৫-২১০ মি.মি. ইত্যাদি। বুঝতেই পারছেন, এর ফলে মাত্র একটি লেন্স ব্যবহার করেই আপনি কাছের এবং দূরের ছবি অনায়াসে তুলতে পারবেন।
আগেই বলেছি এ ক্ষেত্রে আপনার পছন্দ করার মত লেন্সের সংখ্যা প্রচুর। আপনি যেই ক্যামেরাটি পছন্দ করেছেন সেই প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে আপনি লেন্সের ধরণ এবং দাম সম্পর্কে আরো বিশদ জানতে পারবেন। তবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও ট্যামরন, সিগমার মত বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা স্বল্পমূল্যে বিভিন্ন ক্যামেরার জন্য ভালো লেন্স তৈরি করে থাকে।
প্রাইম লেন্স বা ফিক্সড ফোকাল লেন্থ গ্লাসগুলো সাধারণত দক্ষ স্থির চিত্রগ্রাহকদের পছন্দ। যেমন ধরুন ৫০ মি.মি. প্রাইম লেন্সটি পোর্ট্রেট ছবি তোলার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়া মিররলেস ক্যামেরার ক্ষেত্রে ২৮ মি.মি. লেন্সটি একই ধরণের ছবি তোলার ক্ষেত্রে ভালো দক্ষতা প্রকাশ করেছে। তবে, এর সবকিছুই নির্ভর করবে আপনার পছন্দের উপর। আপনি ব্যবহার করতে পারেন ৮ মি.মি. ফিশআই, ১৪ মি.মি. ওয়াইড অ্যাঙ্গেল, ৬০ মি.মি. ম্যাক্রো অথবা ৫০০ মি.মি. টেলিফটো। পছন্দ আপনার!

ওয়াইড লেন্স

পছন্দের ক্যামেরাটি আপনি কিনে ফেলেছেন, এখন লেন্সের জন্য বাজারে ঢু মারার উদ্যোগ নিয়েছেন। দেখলেন একই নির্মাতার একটি ৫০ মি.মি. লেন্সের মূল্য $১২০ আবার আরেকটির মূল্য $১৬০০। এই দু'টি লেন্সের মধ্যেকার প্রধান পার্থক্য হচ্ছে অ্যাপারচার বা লেন্সটি কত ওয়াইড ওপেন হবে তার উপর। একে মাপা হয় f/stops এর মাধ্যমে, সংখ্যাটি যত নিচের দিকে হবে আপনি আলো তত বেশি ধরতে পারবেন। যেমন ধরুন এফ/১.৮ লেন্সের মূল্য ১২০ ডলার হলেও এফ/১.২ এর মূল্য হবে অনেক বেশি। এফ/১.২ শ্রেণীর লেন্সগুলোতে উন্নত মাণের গ্লাস ব্যবহৃত হওয়ায় এবং তৈরির মাণ ভালো হবার কারণে দামটাও অধিক। আপনি যদি স্বল্প আলোতে, ফ্ল্যাশ বিহীন ছবি তুলতে আগ্রহী হন তাহলে আপনার উচিত হবে এ ধরণের লেন্সের পেছনে খরচ করা। অ্যাপারচার যত কম হবে ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে তত অস্বচ্ছ ইফেক্ট পাবেন। ৫০ মি.মি. লেইকা লেন্স এ রয়েছে সবচেয়ে কম এফ/স্টপ, এফ/০.৯৫ এই লেন্সটির মূল্য ১১ হাজার মার্কিন ডলার।

ইমেজ স্ট্যাবিলাইজার

অনেক বিনিমেয় লেন্স ক্যামেরার বডিতে ইমেজ স্ট্যাবিলাইজার থাকলেও ক্যানন এবং নিকন এর ক্যামেরাগুলোতে এই সুবিধাটি দেয়া থাকেনা। তবে এদের লেন্সগুলোর অনেক সংস্করণে ইমেজ স্ট্যাবিলাইজার দেয়া হয়ে থাকে। ক্যানন এ ক্ষেত্রে লেন্সের উপর আইএস (IS) আর নিকন ভিআর (VR) চিহ্নের মাধ্যমে ইমেজ স্ট্যাবিলাইজার এর বৈশিষ্ট্যটি নির্দেশ করে থাকে। আপনি যদি টেলিফটো ছবি তুলতে আগ্রহী হন তাহলে এই বৈশিষ্ট্য হবে আপনার জন্য অবশ্য বিবেচ্য।
ডিজিটাল এসএলআর ক্রয়ের মাধ্যমে আপনি বিনিমেয় লেন্সের এক অদ্ভুত জগতে প্রবেশ করেছেন। এখানে আপনাকে জানতে হবে অনেক কিছু, শিখতে হবে অনেক কিছু। এখানে দেয়া কয়েকটি বৈশিষ্ট্য ছাড়াও আপনাকে জানতে হবে লেন্সে ব্যবহার করা কাচের মাণ এবং এদের তৈরি করার পদ্ধতি সম্পর্কে। আপনি হয়তো ভাবছেন এ কোন দুনিয়ায় পা দিলাম। কিন্তু ঘাবড়ানোর কোন প্রয়োজন নেই। কম্প্যাক্ট ক্যামেরা বাদ দিয়ে ডিজিটাল এসএলআরের জগতে প্রবেশ করার মাধ্যমে প্রথম পদক্ষেপটিতো আপনি গ্রহণ করেই ফেলেছেন এখন শুধু অভিজ্ঞতাটাই বাকি! (তথ্য সূত্র: ডিজিটাল ট্রেন্ডস)